যেভাবে ওমরা করবেন


হজের নির্দিষ্ট সময় হচ্ছে যিলহজ মাসের ৯-১৩ তারিখ পর্যন্ত।এ সময়ের বাইরে হজ করা যায় না। আর ওমরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। শুধু হজের দিনগুলো ছাড়া বছরের বাকী সময়গুলোতে করা যায়। বিশেষ করে রমজানের সময় ওমরার ফজিলত অনেক বেশি। তারপরও বিশ্ব মুসলিম হজের জন্য বাইতুল্লায় আগে আগে গেলে হজের পূর্বে ওমরা করে থাকেন। আবার অনেকে হজ ও ওমরার ইহরাম এক সঙ্গে বেঁধে উল্লেখিত সময়ের পূর্বেই ওমরা আদায় করেন এবং সেই ইহরাম দিয়ে হজও সম্পাদন করেন। এখানে ওমরা করার নিয়ম তুলে ধরা হলো-

যেভাবে ওমরা করবেন-
মিকাত তথা ইহরাম বাঁধার স্থান থেকে হজের মতো ইহরাম বেঁধে নিষিদ্ধ ও মাকরূহ কাজসমূহ থেকে বিরত থেকে পরিপূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কায় প্রবেশ করা।

উমরার জন্য ফরজ কাজ দুটি-
প্রথম কাজ- ইহরাম বাঁধা
ওমরার জন্য হজের ন্যায় সেলাইবিহীন দুই কাপড় পরিধান করে ইহরাম বাঁধা এবং নফল নামাজ আদায় করে ওমরার নিয়ত উচ্চারণ করা। অতপর তালবিয়া পাঠ করতে করতে মসজিদের হারামের বাবুস সালাম দরজা দিয়ে অথবা বাবুল ওমরা ধরে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা।

দ্বিতীয় কাজ- তাওয়াফ করা
ওমরার দ্বিতীয় ফরজ কাজ হলো বাইতুল্লাহ তাওয়াফে রমল করা। অর্থাৎ তাওয়াফের সময় মুজাহিদের মতো বীর দর্পে দুই কাঁধ দুলিয়ে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা। অতপর ওমরার ওয়াজিব দুই কাজ আদায়ের মাধ্যমে ওমরার ইহরাম থেকে বের হওয়া।

তাওয়াফের পর ওমরা পালনকারীরা মাকামে ইবরাহিমে দু’রাকাআত নফল নামাজ আদায় করেন। অতপর ঝমঝমের পানি পান করেন। তারপর ওমরার ওয়াজিব কাজ দুটি আদায় করেন।

ওমরার ওয়াজিব কাজ দুটি-
প্রথম কাজ- সাঈ করা
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ৭বার সাঈ করা। উভয় পাহাড়ের মর্ধবর্তী স্থানের নির্ধারিত জায়গা দ্রুতপায়ে অতিক্রম করা।

দ্বিতীয় কাজ- মাথা মুণ্ডন করা
সাফা-মারওয়া সাঈ’র পর মাথার চুল কাটার মাধ্যমে ওমরার ইহরাম থেকে বের হওয়া।

লক্ষ্যণীয়-
বছরের ৫ দিন ব্যতিত (৯ যিলহজ থেকে ১৩ই যিলহজ) সারা বছর ওমরা করা যায়। এ পাঁচ দিন ওমরা করা মাকরূহ তাহরিমি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়মে ওমরা আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Have any Question or Comment?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *